গাজীপুরে নতুন ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ডুয়েটে দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা
আবু ইউসুফ, গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি:
/ ৩৯
Time View
Update :
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
Share
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-ডুয়েটে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ শুক্রবারও চলেছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শিক্ষার্থীরা আবারও ঢাকা-শিমুলতলী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন,বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। শুক্রবারও তারা সড়কে অবস্থান নেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য বদলের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বুয়েটসহ ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। ডুয়েটে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল।
তিনি বর্তমানে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিয়োগের খবর প্রকাশের পর পরই শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ক্যাম্পাসে মিছিল করেন এবং কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা “দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই” এবং “ডুয়েটের ভিসি, ডুয়েট থেকেই চাই” স্লোগান দেন।
পর দিন শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ব্যানার টানিয়ে দেন।
ডুয়েট শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে ডুয়েটের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা বেশি। তাই ভিসি ডুয়েট থেকেই হওয়া উচিত।
শিক্ষার্থীদের দাবি,বাইরের কাউকে ভিসি করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
ডুয়েট শিক্ষক সমিতিও আগে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের দাবি জানিয়েছিল।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক বিষয় বুঝে উঠতে সময় লাগে। তবে সরকার যেহেতু নিয়োগ দিয়েছে, সেটিই এখন আমাদের সিদ্ধান্ত।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন,তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।